৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার || ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
গৌরীপুরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান সংবাদকর্মীদের হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও মাস্ক দিলেন জাপা’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক গৌরীপুর সরকারি কলেজ সাতান্ন বছরে পা রাখলো জনপ্রতিশ্রুতি, বিজয় স্রোতে হারিয়ে যায়! রাস্তা সংস্কার করে দিলেন তরুণ শিল্পপতি জাকির পথ শিশুদের জন্য কোরবানি দিলেন সেচ্ছাসেবী সংগঠন এসো গৌরীপুর গড়ি গৌরীপুরে নদী ভাঙ্গন ও বন্যার্তদের পাশে ইউএনও করোনা সত্যি নাকি ব্যবসা ?। শহিদুল্লাহ রায়হান অন্যচিত্র উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে করোনা বিস্তার রোধে মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচী গৌরীপুর পৌরসভার উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ কর্মসূচী পালিত গৌরীপুর উপজেলা প্রশাসনের মাস্ক বিতরণ কর্মসূচী পালিত

সুমন সরকার, নালিতাবাড়ী : আজ ২৫ জুলাই সোহাগপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে পাকিস্থানী হায়েনার দল নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৮৭ জন নিরীহ পুরুষ মানুষকে নির্মম ভাবে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছিল। সেদিন প্রত্যেক্ষদর্শীর অনেকের চোখে বীরদর্পে মানুষ খুনের খেলায় মাতোয়ারা, উচ্ছাসিত হয়ে এই পাকিস্থানী পশুরা উন্মুক্ত নৃত্য করেছিল।

সেদিনের সেই হত্যাকান্ডে সকল পুরুষ মানুষকে একদিনে হত্যা করা হয়। এজন্য গ্রামকাসী এই গ্রামের নামকরন করে ‘সোহাগপুর বিধবা পল্লী’। পরবর্তীতে আবার নামকরন করা হয় বীরকন্যা পল্লী নামে। সেদিনের সেই স্বজন হারা মানুষজনের গগণ বিদারী কান্না চিৎকারে সোহাগপুর গ্রামের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। আর সেদিনের এই নির্মম ঘটনার সংবাদ শুনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ব্যাথিত হয়েছিলেন। তাদের দুঃখে মমার্মহত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পরবর্তী সময়ে তাদের অনুদান, নগদ অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছিলেন। সেই থেকে আজও সোহাগপুরের স্বামীহারা বিধবাদের কান্নার শেষ নেই! নানা অসুখে বিসুখে আজ তাদের অনেকেই নেই।

মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও এলাকাবাসী ঘটনা বর্ননা সুত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা আশ্রয় নিয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় ১৫০ জনের পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী সোহাগপুর গ্রামের প্রফুল্লের দিঘি থেকে সাধুর আশ্রম পর্যন্ত এলাকা ঘিরে ফেলে। হায়েনার দল অর্ধদিন ব্যাপী তান্ডব চালিয়ে খুঁজতে থাকে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের আশ্রয়দাতাদের। এ সময় প্রাণের মায়া ত্যাগ করে এগিয়ে যায় আলী হোসেন ও জমির আলী, কিন্তু বেশী দুর এগুতে পারেনি। এক রাজাকার গুলি করে দু’জনকেই হত্যা করে। এরপর শুরু হয় নারকীয় হত্যাকান্ডের তান্ডব। মাঠে কর্মরত রমেন রিছিল, চটপাথাং ও সিরিল গাব্রিয়েল নামে তিন গারো আদিবাসী, তাদের কে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। তারপর একে একে হত্যা করে আনসার আলী, লতিফ মিয়া, ছফর উদ্দিন, শহর আলী, হযরত আলী, রিয়াজ আহমেদ, রহম আলী, সাহেব আলী, বাবর আলী, উমেদ আলী, আছমত আলী, মহেজ উদ্দিন, সিরাজ আলী, পিতা-পুত্র আবুল হোসেন সহ প্রায় ১৮৭ জন নিরীহ পুরুষ মানুষকে।

যা ঘটেছিল ২৫ জুলাই সকাল ৭টা। গ্রামের মানুষ লাঙ্গল জোয়াল নিয়ে রোপা আমন ধানের ক্ষেত লাগানোর জন্য মাঠে যাচ্ছিল। কেউ কেউ কাজ করছিল বাড়িতেই। সিরাজ আলী বসেছিল ক্ষেতের আইলে হঠাৎ গুলির শব্দে চমকে উঠে। তাকিয়ে দেখে বিলের ভেতর থেকে এগিয়ে আসছে ঘাতক রূপি হানাদার বাহিনী। ভয়ে সবাই দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাইলেও হাসান আলী বলেন, তোমরা যার যার কাজ কর দৌড়ালে বরং গুলি করবে। কথা শেষ হতে না হতেই মুহুর্তেই হানাদার বাহিনী কিশোর সিরাজ আলী ছাড়া সবাইকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে। সে দিন লাশ হলো সবাই। রক্তে লাল হলো আমন ধানের ক্ষেত। আস্তে আস্তে সবাই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চির নিদ্রায় শায়িত হয় সোহাগপুর গ্রামের মাটিতে।

বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়, ৫টি গুলি লাগার পরও মুমূর্ষ অবস্থায় মাটিতে পরেছিল রহম আলীর ছেলে সিরাজুল ও নাম নাজানা অপর একজন। তাদের গুংগানী থামছে না দেখে নির্দয় হানাদার বাহিনীর একজন ধারালো বেয়নেট আমুল বসিয়ে দিল তাদের মাথার উপর। চিরতরে থেমে গেল তার আর্তনাদ। ভীত শমসের আলী ও ছেলে হযরত আলী মাঠ থেকে দৌড়ে এসে ভয়ে আশ্রয় নিয়েছিল ঘরে। হানাদার বাহিনী তাদেরকে ঘর থেকে আনতে গেলে স্ত্রী লাকজান বেগম হানাদার বাহিনীর পায়ে লুটিয়ে পড়ে স্বামী সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চায়। লাকজান বেগম কে পাকবাহিনী পায়ের বুট দিয়ে লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দিয়ে শমসের আলীকে ধরে আনে। ভয়ে কাপছিল সারাদেহ! স্ত্রীর সামনেই গুলি করে ঝাঝরা করে দিল শমসের আলীর দেহ। একই ভাবে হত্যা করা হল তার ছেলেকেও।

এভাবে সোহাগপুর গ্রামের সকল পুরুষ মানুষকে একদিনে হত্যা করা হয়। পরবর্তী থেকে এ গ্রামের নাম হয় ‘সোহাগপুর বিধবা পল্লী’। এখানে কলাপাতা, ছেড়া শাড়ী আর মশারী দিয়ে কাফন পড়িয়ে ৪/৫ টি করে লাশ এক একটি কবরে দাফন করা হয়েছিল। আবার কোন কোন কবরে ৭/৮টি করে লাশও এক সাথে কবর দেওয়া হয়েছিল। এ নারকীয় হত্যাকান্ডের জীবন্ত স্বাক্ষী রয়েছেন অনেকেই। সময়ের পাখায় ভর করে বছর ঘুরে আসে ঠিকই। আবার সামনে চলে আসে পেছনে ফেলে আসা স্মৃতি। আর কতকাল ভাসবেন তারা চোঁখের জলে ? স্বাধীনতার ৪৮ বছরের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় স্বামীহারা এসব বিধবারা এখনো স্বজন হাড়ানোর ব্যথা বুকে চেপে ধরে বেঁচে আছেন অনেকেই।

শহীদ পরিবার কল্যান ট্রাষ্ট্রের সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন জানান, এদিকে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে মোট ২৬জন স্বামীহারা বিধবা বেঁচে আছেন। এরমধ্যে ১৩জন বীরঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ভাতা পান এরমধ্যে ২জন মৃত্যু বরন করেছেন। বাকি যারা আছেন তারাও জীবনের শেষ সময়ে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি নিয়ে পৃথিবী হতে বিদায় নিতে চান। এদিকে বেসরকারী ভাবে ১৯৯৭ সাল হতে ব্র্যাকের মাধ্যমে প্রত্যেক বিধবাকে ৫শ’ টাকা করে টাকা, ট্রাষ্ট ব্যাক হতে ২ হাজার করে টাকা ও ইউপি পরিষদ হতে ৫শ করে টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। শহীদ পরিবারকে সহযোগিতার জন্য শেরপুর জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী কর্তৃক মাশরুম চাষ প্রকল্প, পাওয়ার টিলার, ধান ভাংগানো মেশিন, মাড়াই মেশিনসহ বেশ কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। শুধু স্মৃতিস্তম্ভ ছাড়া সব কিছুই ভেস্তে গেছে। এদিকে সোহাগপুর বীরকন্যা পল্লীতে এক বীরকন্যা প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে সেনা বাহিনী ৪শতাংশ জায়গা ও জেলা পুলিশ ৭শতাংশ জায়গা ক্রয় করে দিয়েছে। সেখানে বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার বিধবাদের জন্য ১টি করে সরকারী ঘর বরাদ্ধ করেছে এবং কাজও শেষ হয়েছে।

এ ব্যাপারে শহীদ পরিবার কল্যান ট্রাষ্ট্রের সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন বলেন, যাদের নির্দেশে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। সেই রাজাকার-আলবদর ও হত্যাাকারীদের কে সরকার আন্তর্জাতিক ট্রাইবুন্যাল আদালতে মোট ৪টি মামলা হয়।



গৌরীপুরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান

সংবাদকর্মীদের হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও মাস্ক দিলেন জাপা’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক

গৌরীপুর সরকারি কলেজ সাতান্ন বছরে পা রাখলো

জনপ্রতিশ্রুতি, বিজয় স্রোতে হারিয়ে যায়! রাস্তা সংস্কার করে দিলেন তরুণ শিল্পপতি জাকির

পথ শিশুদের জন্য কোরবানি দিলেন সেচ্ছাসেবী সংগঠন এসো গৌরীপুর গড়ি

গৌরীপুরে নদী ভাঙ্গন ও বন্যার্তদের পাশে ইউএনও

করোনা সত্যি নাকি ব্যবসা ?। শহিদুল্লাহ রায়হান

অন্যচিত্র উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে করোনা বিস্তার রোধে মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচী

গৌরীপুর পৌরসভার উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ কর্মসূচী পালিত

গৌরীপুর উপজেলা প্রশাসনের মাস্ক বিতরণ কর্মসূচী পালিত

গৌরীপুর পৌরশহরে করোনায় মৃত্যুবরণকারী হিন্দু ব্যাক্তির সৎকারের দায়িত্ব নিলেন সাংবাদিক কমল সরকার

গৌরীপুরে ভাই-বোনের ঝগড়া কিশোরীর লাশ উদ্ধার

গৌরীপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল গ্রেফতার

গৌরীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

গৌরীপুরে পুলিশ কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন হীরার জম্মদিন উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সালাত ও সাবধানতার ঐক্যতান। আল ইমরান মুক্তা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বেচ্ছাশ্রমে নো ক্যাপটেন ব্যাচের প্রাণান্ততর প্রচেষ্টা

বায়োগ্রাফিক্যাল নাটক “রাধারমণ” তরু শাহরিয়ার স্বর্গ

মা কেন কাঁদে! মা-মায়ের অনুভূতি || রেবেকা সুলতানা|

ময়মনসিংহের গর্ব অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা দ্বিতীয় বারের মত আইজিপি ব্যাজ পেলেন

বিজ্ঞাপন

ছবিঘর

Top